রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হলো তারাবি নামাজ, যা মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। হাদিসে বর্ণিত আছে, ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম (তারাবি) আদায় করলে পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।
হাদিস অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানে তারাবি পড়তে উৎসাহ দিতেন, তবে তা ফরজ করে দেননি। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, একসময় নবীজি মসজিদে তারাবি পড়লে সাহাবিরা তার সঙ্গে নামাজ আদায় করেন। কিন্তু পরে তিনি আশঙ্কা করেন, এটি ফরজ হয়ে যেতে পারে—এই কারণে নিয়মিত জামাতে বের হননি।
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, নবীজি সাধারণত ১১ রাকাত (৮ রাকাত নফল ও ৩ রাকাত বিতর) নামাজ আদায় করতেন এবং তা দীর্ঘ কিরাতে পড়তেন।
পরবর্তীতে হজরত উমর (রা.)-এর খিলাফতকালে মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে তারাবি জামাতে ২০ রাকাত পড়ার প্রচলন শুরু হয়। এতে প্রতি রাকাতে কম কিরাত পড়ে নামাজ সহজ করা হয়।
ইসলামের চার মাজহাবের অধিকাংশ আলেমও ২০ রাকাত তারাবির পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এটি সুন্নত ইবাদত হওয়ায় ৮ বা ২০ রাকাত—যে কোনোভাবে আদায় করা বৈধ।
আলেমরা বলেন, তারাবির রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক না করে আন্তরিকতার সঙ্গে ইবাদত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়