
অসহনীয় গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেট অঞ্চলের জনজীবন। শনিবার (৪ জুলাই) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র রোদে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হননি, ফলে নগরজুড়ে মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ৩টা পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।
তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ। রিকশাচালক শাহীন মিয়া বলেন, সকালে কিছু যাত্রী পাওয়া গেলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। প্রচণ্ড রোদের মধ্যে রিকশা চালাতে খুব কষ্ট হয়। মাথায় ভেজা গামছা বেঁধে কাজ করতে হচ্ছে। গরমের কারণে যাত্রী কমে যাওয়ায় আয়ও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
একই ধরনের কষ্টের কথা জানিয়েছেন দিনমজুর নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুপুরের রোদে কাজ করা এখন খুবই কঠিন। মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর দুর্বল লাগে। তারপরও পরিবারের প্রয়োজনের কারণে কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।
গরমের প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। নগরীর আম্বরখানা এলাকার ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানান, প্রচণ্ড গরমে মানুষ কম বের হওয়ায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। সারাদিন রোদের মধ্যে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলে তাপমাত্রা কমতে পারে। একই সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।