
ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা অব্যাহত রাখতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান।
ইরানে নতুন করে ভারী বোমাবর্ষণ শুরুর পর এই প্রথম কংগ্রেসের শুনানিতে অংশ নেন হেগসেথ। তিনি বলেন, উপস্থাপিত হিসাবের মধ্যে যুদ্ধ-সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতে ব্যয় এবং আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই হিসাব কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত মার্চে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছেন, যার বড় অংশই ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ নিয়ে কংগ্রেসে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কম থাকায় বিলটি পাসে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
শুনানিতে সিনেটের বরাদ্দবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য প্যাটি মারে অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যে মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে বলেন, যুদ্ধের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ না পেলে সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হতে পারে। তাঁর দাবি, চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
শুনানিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও বলেন, সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হলেও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হতে পারে।
পেন্টাগনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। ৭ জুলাইয়ের পর আহত হওয়া ১০০ সেনার মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর উভয় পক্ষ আবারও নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খারগ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাবে।