
রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে চা-দোকানের সামনে প্রাইভেটকারে এসে মাছ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করার ঘটনায় মাদক কারবার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় করা মামলায় মো. রুবেল ওরফে ‘ল্যাংড়া রুবেল’সহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-২-এর ২৬ নম্বর বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ইমনের চা-দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পরদিন শনিবার (৮ আগস্ট) আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রিনা আক্তার বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল (৩৭) এবং পাপ্পু ওরফে শাকিল আহমেদ ওরফে শাকির আহমেদ ওরফে পাপ্পু (৪১)-কে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ২৩।
মামলার এজাহারে রিনা আক্তার অভিযোগ করেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে একটি প্রাইভেটকারে করে রুবেল, পাপ্পুসহ কয়েকজন সেখানে আসেন। এরপর রুবেল আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। হামলায় আলমগীর গুরুতর আহত হন।
এ সময় হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ৬৩ বছর বয়সী পথচারী জোসনা নামে এক নারীর পায়ে লাগে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা স্থানীয়দের হুমকি দিয়ে প্রাইভেটকারে করে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আলমগীরকে স্থানীয়দের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এজাহারে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত জোসনাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. সাইফূল ইসলাম বলেন, আলমগীরকে গুলি করার ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এতে দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে আগের কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় রুবেলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। মাদক কারবার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগও তদন্ত শুরু করেছে।
ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, অস্ত্র এবং হামলার প্রকৃত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে চাইছেন, জনবহুল এলাকায় কীভাবে অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়ে নির্বিঘ্নে চলে গেল, ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি কার এবং হামলার সঙ্গে মামলায় নাম থাকা ব্যক্তিদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ কী। এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তারা।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে পল্লবীর মোড়াপাড়া ক্যাম্প ও সংলগ্ন এলাকায় অটোরিকশাচালক রাকিবুল হাসান সানি ওরফে ‘পেপার সানি’ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতের মা রোজিনা বেগম বাদী হয়ে ১০ জুন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় এম এম রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেলকে ১ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় বোমা কাল্লু, স্বপন, জিন্দা ও টান নামের আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল।
ওই মামলার এজাহারেও রুবেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সানিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, পল্লবী থানার মিরপুর-১১, কালশী, মোড়াপাড়া ক্যাম্প ও মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তবে এসব স্থানীয় অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, পল্লবীতে গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।