
সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে। এবার মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৭ জন। সে তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন।
এবার মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্রের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সম্পূর্ণ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটরিং সেল’ চালু করা হয়েছে, যেখান থেকে দেশের যেকোনো কেন্দ্রের পরীক্ষা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের শরীরে থাকবে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, যা নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এবার ৭৭টি বিষয়ে মোট ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব দিনে পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে।
নকলের অভিযোগ রয়েছে—এমন বিতর্কিত ভেন্যু কেন্দ্রগুলো এবার বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওর, পার্বত্য ও দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কিছু দূরবর্তী কেন্দ্র বহাল রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য শনিবারের পরীক্ষাগুলো সূর্যাস্তের পর বিশেষ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রেই নেওয়া হবে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪০৬ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩০৮ জন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডগুলোতে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ১৪ হাজার ৩১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র বেড়েছে ১ হাজার ১২২ জন এবং ছাত্রী বেড়েছে ১৩ হাজার ১৯৪ জন।
এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৬টি, যা গত বছরের তুলনায় ২১টি বেশি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৫টি, যা গত বছরের চেয়ে ৭৭টি বেশি।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ৯২ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৫২ হাজার ১১ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৮৯৪ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৬ হাজার ৮০৩ জন।
এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে ৪৬১টি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২ হাজার ৭০৫টি, যা গত বছরের তুলনায় ২৩টি বেশি।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৭ হাজার ৫৫২ জন এবং ছাত্রী ৩০ হাজার ৪১২ জন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী কমেছে ১ হাজার ৬৪৭ জন।
কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাকেন্দ্র কমে হয়েছে ৬১০টি, যা গত বছরের তুলনায় ১২৩টি কম। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪৯টি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত হয়েছিল ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৬১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষার ফরম পূরণ করেছে ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৭ জন। অর্থাৎ ৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৪ জন বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিম প্রথম বর্ষে নিবন্ধিত ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭৮ হাজার ২৬৯ জন। ফরম পূরণ করেনি ৬১ হাজার ৬৬০ জন, যা মোট নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ (ভোকেশনাল) শ্রেণিতে নিবন্ধিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ফরম পূরণ করেছে ৭৫ হাজার ১৯৭ জন। বাকি ৯০ হাজার ৩৪৫ জন বা প্রায় ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষার ফরম পূরণ করেনি।