1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

মান পরীক্ষায় ব্যর্থ বম্বে সুইটসের ৫ মসলা

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা এবং বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে বিএসটিআইয়ের দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়া এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়।

বম্বে সুইটসের পাঁচ মসলা নিম্নমানের

বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত পাঁচ ধরনের মসলা নির্ধারিত মানের তুলনায় নিম্নমানের পাওয়া গেছে।

পণ্যগুলো হলো—কারি পাউডার, হাঁসের মাংসের মসলা (ব্যাচ নং-১৪১২২৪), তেহারি মসলা (ব্যাচ নং-১৪০২২৬), কালা ভুনা মসলা (ব্যাচ নং-২৬০৯২৭), গরুর মাংসের মসলা (ব্যাচ-এ) এবং মাছের মসলা (ব্যাচ নং-এ)।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা বাংলাদেশ মানে নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এ কারণে পণ্যগুলো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে।

পাঁচ ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েলেও অনিয়ম

বাংলাদেশ মান অনুযায়ী বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের প্রমাণিত ঘি ও বাটার অয়েল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানি—‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১ জুলাই ২০২৬; মেয়াদ: ৩০ জুলাই ২০২৮)।
  • কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস—‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১৭ জুলাই ২০২৬; মেয়াদ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৭)।
  • মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট—‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১৫ এপ্রিল ২০২৫; মেয়াদ: ১৪ এপ্রিল ২০২৭)।
  • মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট—‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি (উৎপাদন: ১০ জানুয়ারি ২০২৬; মেয়াদ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৮)।
  • এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ—‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল (ব্যাচ নং-০২২০২৬)।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পোলেনস্কে ভ্যালুসহ বিভিন্ন প্যারামিটার নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

‘ঘি’তে দুধের ফ্যাট না থাকার অভিযোগ

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রয়োজনীয় ‘মিল্ক ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিএসটিআইয়ের

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে হটলাইন ১৬১১৯-এ কল অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page