
ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নাটোর বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্পকারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করতে গিয়ে বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ব্যবসায়ীদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রতিদিন তাদের ক্ষতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকারও বেশি।
বিসিক শিল্পনগরীতে এগ্রো কারখানা, মেটাল ইন্ডাস্ট্রি, ক্ষুদ্র খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বড় একটি সময় অলস বসে থাকতে হচ্ছে শ্রমিকদেরও।
ডাল মিল ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের দৈনিক ৬০০ টাকা পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের কাছ থেকে তিন-চার ঘণ্টার বেশি কাজ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কারখানা মালিকরা জানান, সারাদিনে গড়ে চার ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। উৎপাদন কমে গেলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য খরচ ঠিকই বহন করতে হচ্ছে।
এক শ্রমিক বলেন, কাজ না হওয়ার কারণে অনেক সময় ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। আবার কাজ থাকলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় কাজ করিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তারা। তবে বিসিক শিল্পনগরীর সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ ব্যবসায়ীদের হিসাবে ২০০ কোটি টাকারও বেশি।
নাটোর বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, এভাবে বিদ্যুৎ সংকট চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিসিকের অনেক ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।
বিষয়টি নিয়ে বিসিক কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দিতে পারছে না। নাটোর জেলা বিসিকের উপব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান বলেন, শিল্পনগরীর জন্য আলাদা একটি সাবস্টেশন স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জিএম কেএম মেসবাহ উদ্দিন বলেন, বিদ্যুতের সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
নাটোর বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ১০৪টি প্লট রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে বিভিন্ন খাতের ২৬টি কারখানা গড়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও ব্যবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা।