
আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কাঠামোয় এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আদ-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেখ মহিউদ্দিন পদত্যাগের পর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শেখ মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি প্রয়াত শিল্পপতি ও আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সেখ আকিজ উদ্দিনের সন্তান।
ফাউন্ডেশনের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নেতৃত্বে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অধ্যাপক জামালুন্নেসা দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং চিকিৎসা মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত না করার বিষয়গুলো উঠে আসে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নবজাতকদের জন্য পর্যাপ্ত পরিবেশ, বায়ু চলাচল ও তদারকির ঘাটতি ছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জন্মের পর নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিক ছিল এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল না। তবে পরবর্তীতে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনের অন্যান্য কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলা প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।