1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

জিয়ার সমাধিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আচরণে বিব্রত শীর্ষ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাধারণত মঞ্চ, মিছিল কিংবা নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়। তবে কখনো কখনো দলের প্রতিষ্ঠাতা বা শীর্ষ নেতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতেও নেতাকর্মীদের মধ্যে কে আগে যাবেন বা কে সামনে থাকবেন—এ নিয়ে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড় ও হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন তিনি। লাঠির সহায়তায় চলা অসুস্থ রিজভী ধাক্কাধাক্কির কারণে একপর্যায়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন।

তীব্র গরমের মধ্যে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিতে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সামনের সারির নেতাকর্মীদের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত রিজভী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছেন। দলকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশিত সাংগঠনিক কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করাই এখন তাদের দায়িত্ব।

জিয়া উদ্যানে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা নতুন নয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কিংবা কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী একসঙ্গে সমাধি প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রায়ই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের মতে, নির্দিষ্ট নিয়মে সারিবদ্ধভাবে শ্রদ্ধা জানানোর পরিবর্তে আগে ফুল দেওয়ার প্রবণতা, শীর্ষ নেতাদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা এবং নিজেদের উপস্থিতি ক্যামেরায় তুলে ধরার আগ্রহ থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, ব্যারিকেড এবং নির্দিষ্ট প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন দলটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের আচরণ নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, এ ধরনের দৃশ্য নিয়ে তারাও বিব্রত। রাজনীতি শুধু স্লোগান কিংবা হুড়োহুড়ির বিষয় নয়; দলীয় আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন উপলব্ধি করা প্রয়োজন। নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ বাড়াতে সাংগঠনিকভাবে প্রশিক্ষণ বা অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি তারা ভাবছেন বলেও জানান তিনি।

এর আগেও জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে আলোচনায় আসে। গত বছরের শেষদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নবগঠিত কমিটির নেতারা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইশরাক হোসেন সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওই ঘটনার জন্য নেতাকর্মীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে নিজেদের উপস্থিতি জানানোর প্রবণতাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, অনেকে নিজের ছবি গণমাধ্যমে দেখানোর জন্য ব্যস্ত থাকেন। মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তারা শৃঙ্খলা ও আদর্শের শিক্ষা পেয়েছেন। রাজনীতিতে সিনিয়র ও জুনিয়রদের অবস্থান মেনে চলা জরুরি। এ বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় হুড়োহুড়ি কমবে বলে মনে করেন তিনি।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির মধ্যেও শ্রদ্ধা নিবেদনের মতো কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে একদিকে দলীয় ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকবে, অন্যদিকে সমাধি প্রাঙ্গণের পরিবেশও সুশৃঙ্খল থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page