
রাজধানীর আদাবরের নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠক শেষে আবুল বাসার বাদশা (৩০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই ইউনিটের বিএনপির সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদাবর থানার নবোদয় কাঁচাবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল বাসার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাদ্দাম বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত আবুল বাসার বাদশা ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকে বসবাস করতেন এবং নবোদয় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, গত ২৯ জুন ব্রাজিল ও জাপানের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন একই বিষয়কে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ হয়। পরে বুধবার রাত ৮টার দিকে নবোদয় বাজারের পাশে বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে আবুল বাসার বাদশা ও সাদ্দাম হোসেনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ চলাকালে কয়েকজন যুবক বাঁশি বাজিয়ে উল্লাস করলে আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিব নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে নীরবকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরদিন সন্ধ্যায় একই এলাকায় নীরবের ভাই রিপন ও ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে আবারও হাতাহাতি হয়। পরে এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ শেষে মাসুম, রবিন, নাহিদ, রিপন, নীরব, পারভেজ, মজনু, সুমন ও শহিদসহ কয়েকজন ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা হাবিবের পক্ষের লোকজনের পাশাপাশি নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দলসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।