
সকালে ঘুম থেকে উঠে বালিশে কয়েক গোছা চুল পড়ে থাকতে দেখলে অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েন। চুল পড়ার পেছনে বংশগত কারণ, হরমোনের পরিবর্তন, পুষ্টির ঘাটতি ও মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। তবে প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও চুলের ভাঙন বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ঘুমের সময় বালিশের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ, ভেজা চুল নিয়ে ঘুমানো কিংবা শক্ত করে চুল বেঁধে রাখার মতো অভ্যাস চুলের ক্ষতি করতে পারে।
চুলের যত্নে তাই শুধু শ্যাম্পু, তেল বা খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না, ঘুমানোর আগের অভ্যাসগুলোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কয়েকটি সহজ পরিবর্তন চুলের ভাঙন কমাতে এবং চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
১. সিল্ক বা সাটিনের বালিশের কভার ব্যবহার করুন
ঘুমের মধ্যে বারবার পাশ ফেরার কারণে চুল ও বালিশের মধ্যে ঘর্ষণ তৈরি হয়। তুলার বালিশের কভারের তুলনায় সিল্ক বা সাটিনের মসৃণ কভারে চুলের ঘর্ষণ ও জট কিছুটা কম হতে পারে। এতে চুলের ভাঙন কমাতে সহায়তা মিলতে পারে। পাশাপাশি বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি।
২. ভেজা চুল নিয়ে ঘুমাবেন না
গোসলের পর চুল পুরোপুরি শুকানোর আগেই ঘুমাতে গেলে চুল ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভেজা অবস্থায় চুল তুলনামূলক দুর্বল থাকে এবং টান বা ঘর্ষণে সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে চুল শুকিয়ে নেওয়া ভালো। প্রয়োজনে কম তাপমাত্রায় হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. শক্ত করে চুল বাঁধা এড়িয়ে চলুন
ঘুমানোর সময় শক্ত করে পনিটেইল, খোঁপা বা বেণি বাঁধলে চুলের গোড়ায় দীর্ঘক্ষণ টান পড়ে। নিয়মিত এমন করলে চুল ভেঙে যেতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে চুলের গোড়ায় টানজনিত ক্ষতিও হতে পারে। চুল বেঁধে ঘুমাতে চাইলে ঢিলেঢালা বেণি বা আলগা করে বাঁধা পনিটেইল বেছে নিন।
৪. মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন
ঘুমানোর আগে আঙুলের ডগা দিয়ে কয়েক মিনিট মাথার ত্বকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে জোরে ঘষা, নখ দিয়ে আঁচড়ানো কিংবা চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ম্যাসাজ চুল পড়া বন্ধ করে—এমন শক্ত প্রমাণ নেই; তাই এটিকে আরামদায়ক পরিচর্যার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা ভালো।
৫. মাথার ত্বকের শুষ্কতার দিকে নজর দিন
শুষ্ক আবহাওয়া বা দীর্ঘ সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার কারণে কারও কারও মাথার ত্বকে শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে নিজের মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত পরিচর্যার পণ্য বেছে নেওয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত তেল বা ভারী প্রসাধনী ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ব্যবহার করুন। মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা খুশকির সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৬. রাতে চুলে অতিরিক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না
চুলের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সেরাম বা কন্ডিশনিং পণ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। কোনো পণ্য ব্যবহারের পর মাথার ত্বকে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তি হলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৭. পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করুন
চুলের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি ও মানসিক চাপ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
চুলের যত্নে এসব অভ্যাস উপকারী হতে পারে, তবে মনে রাখতে হবে, চুল পড়ার সব সমস্যার সমাধান শুধু রাতের পরিচর্যায় সম্ভব নয়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে, মাথার কোনো অংশে চুল পাতলা হয়ে গেলে কিংবা হঠাৎ চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলেই চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার সঠিক পথ পাওয়া সম্ভব।