
বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্পিকার বলেন, “আজ বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আমি হাতে পেয়েছি। স্পিকার হিসেবে আমি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।”
তিনি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে ইতোমধ্যে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছুদিন আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। তবে স্পিকার বিদেশে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা কিছুটা বিলম্বিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগ দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডন সফরের সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। পরবর্তীতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয় বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সফর সম্পর্কে অবহিত করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা তার পদত্যাগের দাবি জানান। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে তার ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এখন আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।