
উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেশার) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বিশ্বের প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সময়মতো এটি নিয়ন্ত্রণে না আনলে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সকালের নাশতায় পটাশিয়াম, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সকালের নাশতায় ফল ও শাকসবজি রাখা সবচেয়ে উপকারী অভ্যাসগুলোর একটি। কলা, আপেল, ডালিম, কমলা, আঙুর, লেবু ও বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফলে রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। একইভাবে ব্রকলি, টমেটো, ফুলকপি ও সবুজ শাকসবজিতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এর মধ্যে কলা পটাশিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস, যা শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ডালিমে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।
গরমের সময় তরমুজও হতে পারে একটি আদর্শ খাবার। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে এবং স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওটসও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর একটি নাশতার বিকল্প। এতে থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হজমশক্তি উন্নত করে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত ওটস খাওয়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দইও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে উপকারী একটি খাবার। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়ামের প্রভাব কমাতে এবং রক্তনালিকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে দই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা, লবণ কম খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন—এসবও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (এএইচএ) উচ্চ রক্তচাপবিষয়ক নির্দেশনা।