সরকার স্মার্টফোনকে আরও সাশ্রয়ী করে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে বড় উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনার উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ‘নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রযুক্তি খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সবার হাতে স্মার্ট ডিভাইস পৌঁছানো জরুরি। সে লক্ষ্যেই সরকার স্মার্টফোনের দাম ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষের হাতে স্মার্টফোন নেই বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, যেখানে ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকায় একটি ফিচার ফোন পাওয়া যায়, সেখানে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোন কিনতে ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা খরচ করতে হয়। এই ব্যবধান কমাতে সরকার মোবাইল নির্মাতা, খুচরা বিক্রেতা, অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, লক্ষ্য হচ্ছে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা যাতে একজন কৃষক, দিনমজুর কিংবা রিকশাচালকও সহজেই স্মার্টফোন কিনতে পারেন। এতে ডিজিটাল সেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
ডিজিটাল সেবাকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ নীতি প্রণয়নের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থার আওতায় জন্মের পর থেকেই প্রতিটি নাগরিক একটি ডিজিটাল পরিচয় পাবেন, যা একটি ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
এই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যাংকিং সেবা ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
টেলিযোগাযোগ খাতে উচ্চ করের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বর্তমানে একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে বাস্তবে প্রায় ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি অংশ বিভিন্ন কর হিসেবে কেটে নেওয়া হয়। এই উচ্চ কর কাঠামো মোবাইল অপারেটর, ডিভাইস নির্মাতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপরও প্রভাব ফেলছে।
সেমিনারে খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন এবং টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়ন, নীতিমালার সংস্কার ও উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোনের দাম কমানো এবং একক ডিজিটাল আইডি চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর আরও গতিশীল হবে। এর ফলে প্রযুক্তি ব্যবহারে বৈষম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে আধুনিক ডিজিটাল সেবার আওতায় আসতে পারবেন।