1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৮ অপরাহ্ন

মুরগি ও সবজির দামে স্বস্তি, তবে মাছের বাজারে উল্টো চাপ

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর রাজধানীর বাজারে পোল্ট্রি, সোনালি ও দেশি মুরগির দামে স্বস্তি ফিরেছে। কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে এসব মুরগির দাম। একই সঙ্গে সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও মাছের দামে উল্টো ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগেও সোনালি মুরগির কেজি ৪০০ থেকে ৪১০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় নেমে এসেছে। পোল্ট্রি মুরগির দামও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা কমে এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দামেও বড় ধরনের পতন হয়েছে—আগের তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা কমে বর্তমানে ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লেয়ার মুরগির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এই মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের আগে খামারে সরবরাহ সংকট থাকায় মুরগির দাম বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দামে। এক বিক্রেতা জানান, “এখন খামার থেকে মুরগি বেশি আসছে, তাই দাম কমেছে। সামনে আরও কিছুটা কমতে পারে।” তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা মুরগির বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি।

অন্যদিকে গরু ও খাসির মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির পাশাপাশি সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অধিকাংশ সবজির দাম গত এক সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে করলা ও পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে মাছের বাজারে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বেশিরভাগ মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন ২২০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

পাঙ্গাশ মাছের দাম বেড়ে ২২০ টাকা থেকে ২৩০ টাকায় উঠেছে। প্রায় ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ৩০০ টাকার মধ্যে ছিল। আর ২ কেজির বেশি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি।

এ ছাড়া তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ অন্যান্য মাছের দামও একইভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

একজন ক্রেতা বলেন, “সবজি আর মুরগির দাম কিছুটা কমেছে, এতে একটু স্বস্তি পাচ্ছি। কিন্তু মাছের দাম এখনও বেশি। সব মিলিয়ে খরচ খুব একটা কমেনি।”

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়লে বাজার পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারত।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বাজারে আংশিক স্বস্তি ফিরে এলেও পণ্যের দামে এখনও ভারসাম্য আসেনি। মুরগি ও সবজিতে স্বস্তি থাকলেও মাছের বাড়তি দাম সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। বাজার পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!