দেশের স্বর্ণবাজারে স্বস্তির খবর এসেছে। সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং স্থানীয়ভাবে তেজাবী (পাকা) সোনার দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিংস অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এর আগে এই মানের সোনার দাম ছিল আরও বেশি, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কিছুটা চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দাম কমায় এখন ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ২১ ক্যারেট সোনার দামও কমানো হয়েছে। প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে এর নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা। একইভাবে ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রেও মূল্য কমেছে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, যার ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে এই শ্রেণির সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা। ফলে সব ধরনের সোনার দামেই একযোগে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
শুধু সোনা নয়, রুপার বাজারেও এসেছে মূল্য হ্রাসের ঘোষণা। ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেট রুপার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩৫০ টাকা কম।
১৮ ক্যারেট রুপার ক্ষেত্রেও দাম কমেছে। প্রতি ভরিতে ২৯১ টাকা কমিয়ে এর নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২৩৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সোনার কাঁচামালের দামে ওঠানামার প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে পাকা সোনার দাম কমে যাওয়ায় বাজুস এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয় পক্ষই কিছুটা ভারসাম্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কিছুটা কমে গিয়েছিল। নতুন এই দাম কমার ফলে আবারও বাজারে লেনদেন বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিয়ে বা উৎসব মৌসুমকে সামনে রেখে ক্রেতারা নতুন করে কেনাকাটায় আগ্রহী হতে পারেন।
অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের কারণে যারা সোনা কিনতে পারছিলেন না, তারা এখন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে বাজারে ফিরতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, বাজুসের এই সিদ্ধান্ত দেশের স্বর্ণবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সোনার দাম আরও সমন্বয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়