সারা দেশে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ খাত। এরই মধ্যে নতুন করে দুঃসংবাদ এসেছে ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে। গ্রুপটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১১ এপ্রিল পুনরায় চালু করা হয়। তবে চালুর মাত্র ১১ দিনের মাথায় বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে আবারও একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর পর্যন্ত আদানির দুই ইউনিট থেকে প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ২টার পর হঠাৎ করে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে। এই বড় ধরনের পতনের ফলে জাতীয় গ্রিডে চাপ বেড়ে গেছে।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। কিন্তু উৎপাদন সেই অনুপাতে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে মোট ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। এই বিদ্যুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ৭৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে আদানি পাওয়ার লিমিটেড-এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ২৫ বছর ধরে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাপপ্রবাহের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও বড় প্রভাব ফেলছে। আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত ইউনিটটি সচল না হলে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়