1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

নেপালের নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং পদত্যাগ করেছেন। অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন ব্যবসায়ী দীপক ভট্ট-এর সঙ্গে তাঁর কথিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন গুরুং। তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে দায়িত্বে থেকে তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাব না ফেলাই তাঁর লক্ষ্য।

ফেসবুক পোস্টে গুরুং লেখেন, “আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং পদে থেকে তদন্তপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করার স্বার্থে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আজ থেকেই এটি কার্যকর হবে।”

সদ্য পদত্যাগী এই মন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর শেয়ারসহ বিভিন্ন বিনিয়োগ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটিকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি মনে করেন, জনআস্থা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুং তাঁর বক্তব্যে নৈতিকতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা বড়, আর জনগণের আস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে চলমান “জেনারেশন জেড” আন্দোলন সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির গুরুত্ব তুলে ধরছে।

তিনি বলেন, “সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগত জীবনও প্রশ্নাতীত হতে হবে। নেতৃত্বকে অবশ্যই জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে। আমার ৪৬ ভাই–বোনের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে গঠিত এই সরকার নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে, তার জবাব একটাই—নৈতিকতা।”

এর আগে দীপক ভট্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চাপের মুখে পড়ার পর গুরুং জানিয়েছিলেন, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো অনেক তথ্য গুজবভিত্তিক এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার করা হচ্ছে।

গত সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে গুরুং বলেন, “অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু অনুমান বা ধারণার চেয়ে সত্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ আর সত্য এক বিষয় নয়। সিদ্ধান্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।”

তিনি আরও জানান, দল বা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে চলবেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুংয়ের এই পদত্যাগ নেপালের রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে তদন্তের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!