দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ-এ এক অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বড় পরিসরে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “আমরা নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এর প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।” তিনি জানান, এই নিয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবার মান বাড়বে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য হবে।
স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়ন ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ মোট ৫০০টি হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র বাংলাদেশ আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভ্যাকসিনের বর্তমান মজুদ ও টিকাদান কার্যক্রম নিয়েও আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে টিকার কোনো সংকট নেই এবং আগামী ছয় মাস পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের কাছে রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগে প্রতি চার বছর অন্তর বড় পরিসরে টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হলেও এখন সরকার প্রতিদিনই সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২০ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর বর্তমানে এই কর্মসূচি আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে এবং সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যখাতে এই বহুমুখী উদ্যোগ—বিশেষ করে জনবল বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখা—দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও জনবান্ধব করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়