পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে এ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভাবনা আছে।”
ইসলামাবাদ-সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোও জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবুও আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-তে উত্তেজনা বেড়েছে। অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনটি কার্গো জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এর মধ্যে দুটি জাহাজ আটক করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে আটক জাহাজগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আটক জাহাজ দুটি হলো ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং ‘এপামিনোন্ডাস’। এর মধ্যে ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ জাহাজটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। সংস্থাটির অভিযোগ, জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া প্রণালীতে চলাচল করছিল এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে।
আইআরজিসি আরও জানায়, জাহাজগুলো নেভিগেশন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ এবং গোপনে প্রণালী ত্যাগের চেষ্টা করছিল, যা সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজগুলোকে শনাক্ত করে থামানো হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে ইরানের জলসীমায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের কার্গো ও নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আইন ভঙ্গের যেকোনো প্রচেষ্টা কিংবা নিরাপদ নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেও অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এই দুই ধারার ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়