হাঙ্গেরির রাজনীতিতে সম্ভাব্য ক্ষমতার পালাবদল শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে International Criminal Court (আইসিসি) ইস্যুতে দেশটির অবস্থান বদলাতে পারে—যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর ওপর।
হাঙ্গেরির সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী Péter Magyar স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার সরকার ক্ষমতায় এলে আইসিসির সদস্যপদ বহাল রাখা হবে এবং আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা হবে। এর অর্থ, আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করা বাধ্যতামূলক হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা সরাসরি নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে।
এর আগে দেশটির বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী Viktor Orbán-এর সরকার আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে ওরবানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। তবে ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ দল ক্ষমতায় এলে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আইসিসি গত নভেম্বরে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এই প্রেক্ষাপটে তার পরিকল্পিত হাঙ্গেরি সফর এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে সফরের সময় তাকে আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো এই ইস্যুতে একমত নয়। France এবং Italy ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, রাষ্ট্রপ্রধানদের কূটনৈতিক দায়মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তারা ভিন্ন অবস্থান নিতে পারে। একই ধরনের দ্বিধা আগে প্রকাশ করেছে Germany।
সব মিলিয়ে, হাঙ্গেরির সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনবে না, বরং ইউরোপীয় রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়