মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো যুক্তরাষ্ট্র-এই অবস্থান করছেন এবং ইসলামাবাদ-এর উদ্দেশ্যে কোনো যাত্রা করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্স-কে জানিয়েছে, ইরান-এর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত থাকায় ভ্যান্সের সফর আপাতত স্থগিত রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধিদলই ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি। যদিও আরেকটি মার্কিন সূত্র বলছে, সফরটি বাতিল নয়; পরিস্থিতি অনুকূলে এলে শিগগিরই প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের একটি শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, দেশটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
এর আগে New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) জেডি ভ্যান্স প্রায় ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। সে সময় আলোচনার ব্যর্থতা নিয়ে দুই দেশ একে অপরকে দোষারোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। বিপরীতে, ইরানের দাবি ছিল—বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
বর্তমানে ইরান পরবর্তী বৈঠকে বসার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করলেও সম্ভাব্য মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য কূটনৈতিক তৎপরতা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি সমাধানে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না এবং স্থগিত এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কত দ্রুত পুনরায় গতি পায়।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়