1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। দিনব্যাপী এই আয়োজন নগরজীবনে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আনন্দঘন পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক সময়ের আলো।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় ‘গ্রামীণ মেলা’। দুপুরের দিকে উদ্বোধনী শুভযাত্রা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

উৎসবকে ঘিরে দিনজুড়ে নানা আয়োজন ছিল। লোকজ মেলা, বৈশাখী সাজ, ফানুস উৎসবসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা। গ্রামীণ আবহে সাজানো মেলায় দেখা যায় বৈশাখী পোশাক, অলংকার, হস্তশিল্প ও দেশীয় খাবারের বিভিন্ন স্টল। পাশাপাশি নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ ও পুঁথিপাঠের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শহরের মাঝে গ্রামবাংলার চিরচেনা পরিবেশ তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা কখনোই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। আমাদের সংস্কৃতির প্রতিটি অংশকে চর্চার মাধ্যমে জীবিত রাখতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। “যে যেটা পছন্দ করে, সেটাই তার চর্চার অংশ। একটি নির্দিষ্ট ধারা দিয়ে পুরো সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। গান, নাচ, কবিতা—সব মিলিয়েই আমাদের সংস্কৃতি।”

ববি হাজ্জাজ বলেন, কেউ কোনো সাংস্কৃতিক চর্চা পছন্দ না করলেও অন্যের সেই চর্চার স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া উচিত নয়। “রবীন্দ্রপ্রেমীকে রবীন্দ্রপ্রেমী থাকতে দিন, নজরুলপ্রেমীকে নজরুলপ্রেমী থাকতে দিন, বাউলপ্রেমীকে বাউলপ্রেমী থাকতে দিন—প্রত্যেকটি চর্চাই অব্যাহত থাকা প্রয়োজন,” যোগ করেন তিনি।

উপাচার্য ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলা নববর্ষ বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “একটি দেশের সংস্কৃতি যত উন্নত হবে, সেই জাতি ততই নিজেদের বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পারবে।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “খেলাধুলা যেমন শরীরকে সতেজ রাখে, তেমনি সংস্কৃতি মনকে সমৃদ্ধ করে,” উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করা হয় নৃত্যশিল্পী শর্মিলা ব্যানার্জি এবং সংগীতশিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ-কে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সাংস্কৃতিক সংসদের মডারেটর ড. রাশেদা রওনক খান। মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি-এর মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন

সার্বিকভাবে ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ হয়ে উঠেছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উন্মুক্ত চর্চার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নতুন বছরকে বরণ করেছেন আনন্দ ও বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!