1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি থেকে ১ লাখ টন ক্রুড তেল চট্টগ্রামের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে একটি বৃহদাকার অয়েল ট্যাঙ্কার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করে এই চালানটি দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ৩টায়, যা বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা, ট্যাঙ্কারটি সৌদি আরবের Yanbu Port থেকে যাত্রা শুরু করে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৫ থেকে ৬ মে’র মধ্যে এটি Chittagong Port-এর বহির্নোঙর এলাকায় গভীর সমুদ্রে পৌঁছাবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা Bangladesh Petroleum Corporation সূত্র জানায়, ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের ট্যাঙ্কারটিতে মোট ১ লাখ টন ক্রুড তেল রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরব থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে এমন ট্যাঙ্কারের সময় লাগে প্রায় ১২ দিন। তবে এবার Strait of Hormuz এড়িয়ে Gulf of Aden হয়ে ঘুরপথে আসায় যাত্রা সময় বাড়ছে প্রায় ১৫ দিনে, অর্থাৎ অতিরিক্ত তিন দিন সময় লাগছে।

তেল শোধনাগার Eastern Refinery Limited-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ট্যাঙ্কারটির যাত্রা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে শোধনাগারের মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ডেড স্টক বা সংরক্ষিত ট্যাংকের তলানিতে থাকা সীমিত পরিমাণ ক্রুড দিয়ে উৎপাদন চালানোর চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে উৎপাদন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এর প্রধান কারণ, মার্চ মাসে নির্ধারিত দুইটি চালানে মোট ২ লাখ টন ক্রুড চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে না পারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আগের চালানগুলো আসতে পারেনি। ফলে দেশীয় শোধনাগারে জ্বালানি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার বিকল্প সমুদ্রপথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

ট্যাঙ্কারটির দেশীয় শিপিং এজেন্ট Prime Ocean Limited-এর এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজটি এডেন উপসাগর হয়ে আসায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হচ্ছে না। এতে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও নিরাপদে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

বিপিসি সূত্র মতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টন। Eastern Refinery Limited-এর দৈনিক প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ডিজেলের পাশাপাশি পেট্রোল, জেট ফুয়েল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ১ লাখ টন ক্রুডের চালানটি দেশে পৌঁছালে ইআরএলের উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে সহায়ক হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রবণতা ভবিষ্যতেও বাড়তে পারে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!