মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ওমান উপসাগর এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে বিভক্ত, যা একটি সমন্বিত আলোচনার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, আসিম মুনির এবং শেহবাজ শরিফ-এর অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আক্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। ইরানের পক্ষ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তবে যুদ্ধবিরতির মাঝেও সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার সক্ষমতাও বজায় রাখা হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ মজুত করেছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
অন্যদিকে, এই নৌ অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান জানে কীভাবে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করতে হয় এবং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।
এদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মহাকাশ গবেষণা প্রধান মজিদ মুসাভি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানো হলে পুরো অঞ্চলে তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করা। তাদের ভূখণ্ড যদি কোনো সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে এর প্রভাব শুধু ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নৌ অবরোধ, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক প্রস্তুতির কারণে উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। বরং বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই টানাপোড়েন শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিকেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়