পঞ্চগড় সীমান্ত দিয়ে ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে আটক দুই বাংলাদেশি কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া পাটশিরি সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিশোর দুজনকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা দুই কিশোর হলো ইন্দ্র (১৪) ও উদয় (১৪)। তারা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—একজন ষষ্ঠ ও অন্যজন নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসের কারণে প্রায়ই তারা ওই এলাকায় যাতায়াত করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে সীমান্ত এলাকায় ঘুরতে গিয়ে অসাবধানতাবশত তারা ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে চলে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে নিকটবর্তী মরিচা ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী লাকি আক্তারসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, আটক করার পর কিশোরদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি স্থানীয়ভাবে তৎপরতা শুরু করে এবং দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং কিশোরদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গড়িনাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দিপু জানান, বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ ও কার্যকর যোগাযোগের ফলেই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পঞ্চগড়-১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানিয়েছেন, বর্তমানে দুই কিশোর বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। অসাবধানতাবশত সীমান্ত অতিক্রমের কারণে প্রায়ই উভয় দেশের নাগরিকরা বিপাকে পড়েন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও জোরদার করা জরুরি।