নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। মর্মান্তিক এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও কৌতূহল।
এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী পপি বেগম এবং তাদের দুই সন্তান—১০ বছর বয়সী পারভেজ ও তিন বছরের সাদিয়া আক্তারকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাত আড়াইটার দিকে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে ফজরের নামাজ শেষে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে তিনি চারজনের নিথর দেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গলাকাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তাদের দুই সন্তানের শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘরের দেয়ালে হুমকিমূলক বার্তা লেখা ছিল, যা নিয়ে এলাকায় আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বজনদের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি হুমকি-ধমকির ঘটনাও ছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি হাবিবুর রহমান একটি গরু বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ও ঘরের স্বর্ণালঙ্কার লুট হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধসহ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের এক বোনসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়