একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় জিনিস” (সুরা তওবা: ৭২)। দুনিয়া ও আখেরাতের সব নেয়ামতের চেয়েও এই সন্তুষ্টিই সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। জান্নাতের আকাঙ্ক্ষাও মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই। তাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহর প্রিয় হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে, যা একজন মুমিনকে তাঁর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।
প্রথমত, নম্রতা ও সহনশীলতা একজন মুমিনের অন্যতম গুণ। নম্রভাবে চলাফেরা করা শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণও। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “রহমানের বান্দা তারা, যারা জমিনের বুকে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং নির্বোধরা তাদের সম্বোধন করলে তারা বলে ‘সালাম’” (সুরা ফুরকান: ৬৩)। মূর্খদের সঙ্গে তর্কে না জড়িয়ে শান্ত থাকা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক এবং এটি একজন মুমিনের চরিত্রকে আরও উঁচুতে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, রাতের ইবাদত বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তাহাজ্জুদ নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি এমন এক ইবাদত, যেখানে বান্দা একান্তে তাঁর প্রভুর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছেন, “রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত” (সুরা বনি ইসরায়েল: ৭৯)। হাদিসে এসেছে, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ (নাসায়ি: ১৬১৪)। যারা রাত জেগে ইবাদত করেন, তারা আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দা হিসেবে গণ্য হন।
তৃতীয়ত, জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি প্রার্থনা করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কারণ জাহান্নামের শাস্তি অত্যন্ত কঠিন ও স্থায়ী। তাই আল্লাহর প্রিয় বান্দারা সবসময় এ থেকে আশ্রয় চান। কোরআনে বলা হয়েছে, “হে আমাদের রব, আমাদের থেকে জাহান্নামের আজাব দূর করুন, নিশ্চয়ই তার আজাব স্থায়ী” (সুরা ফুরকান: ৬৫)।
চতুর্থত, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম অপচয় ও কৃপণতা—উভয়কেই নিরুৎসাহিত করে। আল্লাহ বলেন, “তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং এ দুয়ের মাঝামাঝি থাকে” (সুরা ফুরকান: ৬৭)। এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা একজন মানুষকে মানসিক শান্তি ও স্থিতি এনে দেয়।
সবশেষে, ঈমানের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা না করা এবং ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা—এসবও আল্লাহর প্রিয় হওয়ার অন্যতম শর্ত। কোরআনে বলা হয়েছে, “যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না” (সুরা ফুরকান: ৬৮)।
সব মিলিয়ে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন কোনো একক কাজের মাধ্যমে সম্ভব নয়; বরং এটি একটি সামগ্রিক জীবনব্যবস্থা। নম্রতা, ইবাদত, সংযম ও নৈতিকতার সমন্বয়ই একজন মুমিনকে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত করে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়