1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩০ অপরাহ্ন

বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ইসহাক সরকার এনসিপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

রাজনীতির অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকারের দলবদলের মাধ্যমে। শুক্রবার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার পরদিনই তাকে দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

ইসহাক সরকার জানান, শনিবার রাতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। তার নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি রাজধানীর দক্ষিণ অংশে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এস এম শাহরিয়ারকে। তিনি এর আগেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একটি কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা নতুন কমিটির জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসহাক সরকারের মতো একজন অভিজ্ঞ সংগঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা এনসিপির জন্য কৌশলগত একটি পদক্ষেপ। বিশেষ করে রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে দলটি নতুন নেতৃত্বে ভরসা রাখতে চাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইসহাক সরকার বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন এবং যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের পর তিনি স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন ইসহাক সরকার। যদিও নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি, তবুও ওই নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর থেকেই তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম খোঁজার চেষ্টা করছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

শুক্রবার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি মিছিলের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন। তার এই যোগদানকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো দাবি করছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে এনসিপির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসহাক সরকার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই। নতুন প্ল্যাটফর্মে এসে দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সংগঠনকে শক্তিশালী করে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

এদিকে, এনসিপির নেতারা মনে করছেন, বিভিন্ন দল থেকে অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যম সারির নেতাদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে থাকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল ও বাস্তবতা। ইসহাক সরকারের এই পদক্ষেপও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং নতুন দলের সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সব মিলিয়ে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক নেতার দ্রুত নতুন দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এনসিপির হয়ে ইসহাক সরকার কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এবং রাজধানীর রাজনীতিতে তার প্রভাব কতদূর বিস্তৃত হয়।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!