গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা-র গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো ফকির মজনু শাহ সেতু এখন এক ধরনের বৈপরীত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। একদিকে নিয়মিত টোল আদায় চলছে, অন্যদিকে অবহেলায় নাজুক হয়ে পড়েছে সেতুর নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু থেকে আয় বাড়লেও তার উন্নয়ন বা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক খুঁটির বেশিরভাগই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় বাতি নেই, আবার কোথাও তার ছিঁড়ে ঝুলছে। ফলে সন্ধ্যার পর পুরো সেতু অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
শুধু আলোকসজ্জার সমস্যাই নয়, সেতুর ওয়াকওয়ের অবস্থাও উদ্বেগজনক। বিভিন্ন স্থানে ঢাকনা খুলে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা রয়েছে, যেখানে অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া সেতুর স্টিলের সংযোগস্থলগুলোতেও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কোথাও উঁচুনিচু, কোথাও আবার খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় তীব্র ঝাঁকুনি তৈরি হচ্ছে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি সেতুর স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতিদিন শত শত যানবাহন থেকে টোল আদায় হলেও সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে। তাদের মতে, টোলের বিপরীতে সেবার মান দৃশ্যমান না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
এ বিষয়ে এলাকার সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ূবি ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে টোল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না করে টোল আদায় করা জনগণের সঙ্গে অবিচারের শামিল।
অন্যদিকে গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ জানিয়েছেন, সেতু থেকে প্রাপ্ত টোল সরকারি রাজস্ব হিসেবে জমা হচ্ছে। টোল চালু রাখা বা বন্ধ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করে।
স্থানীয়দের একটাই দাবি—দ্রুত সেতুর অচল বাতিগুলো সচল করা, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াকওয়ে সংস্কার করা এবং স্টিলের সংযোগস্থলগুলো মেরামত করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে টোল আদায়ের অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়