1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

রিজিক বৃদ্ধির কার্যকর উপায়: কোরআন ও হাদিসের আলোকে করণীয়

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মানুষের জীবনে রিজিক বা জীবিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলাম শিক্ষা দেয়—রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যাকে ইচ্ছা প্রসারিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সীমিত করে দেন। তাই রিজিক বৃদ্ধির জন্য কেবল পার্থিব চেষ্টা নয়, বরং আধ্যাত্মিক কিছু আমলও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে এমন বেশ কিছু কার্যকর উপায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা অনুসরণ করলে রিজিকে বরকত আসে এবং জীবন হয় শান্তিময়।

তাকওয়া অবলম্বন ও গোনাহ পরিহার

রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উপায় হলো আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সুরা তালাক: ২-৩)

অন্যদিকে রাসুল (সা.) বলেছেন,
“নিশ্চয়ই ব্যক্তি নিজ পাপের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০২২)

এ থেকে বোঝা যায়, গোনাহ রিজিকের পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাই প্রকাশ্য ও গোপনে গোনাহ পরিহার এবং তাকওয়া অবলম্বন করা জরুরি।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ইসলামি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি রিজিক বৃদ্ধিরও একটি মাধ্যম। রাসুল (সা.) বলেছেন,
“যে চায় তার রিজিক বৃদ্ধি হোক অথবা তার আয়ু বৃদ্ধি পাক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।” (সহিহ মুসলিম: ২৫৫৭)

এখানে আয়ু বৃদ্ধির অর্থ হলো জীবনে বরকত লাভ করা এবং সময়কে কল্যাণকর কাজে ব্যয় করার সুযোগ পাওয়া।

হজ ও ওমরার গুরুত্ব

যাদের সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য নিয়মিত হজ ও ওমরা পালন করাও রিজিক বৃদ্ধির একটি উপায়। রাসুল (সা.) বলেন,
“তোমরা একের পর এক হজ ও ওমরা করো। এগুলো দারিদ্র্য ও গোনাহ দূর করে দেয়, যেমন আগুন লোহা, সোনা ও রুপার ময়লা দূর করে।” (তিরমিজি: ৮১০)

সদকা করার গুরুত্ব

সদকা বা দান করা রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম উত্তম মাধ্যম। এখানে ফরজ বা ওয়াজিব দান নয়, বরং নফল সদকার কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করো, তিনি তার উত্তম প্রতিদান দেন। তিনি উত্তম রিজিকদাতা।” (সুরা সাবা: ৩৯)

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন,
“প্রতিদিন দুইজন ফেরেশতা দোয়া করেন—হে আল্লাহ! যে দান করে, তাকে আরও দাও; আর যে কৃপণতা করে, তার সম্পদ কমিয়ে দাও।” (সহিহ বোখারি: ১৪৪২)

বেশি বেশি ইস্তেগফার করা

ইস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাও রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কোরআনে নুহ (আ.)-এর বর্ণনায় বলা হয়েছে,
“তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান বৃদ্ধি করবেন।” (সুরা নুহ: ১০-১৩)

দোয়ার মাধ্যমে রিজিক বৃদ্ধি

দোয়া সব কল্যাণের চাবিকাঠি। তাই রিজিক বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা প্রয়োজন। রাসুল (সা.) প্রতিদিন সকালে দোয়া করতেন,
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, উত্তম রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।” (মুসনাদে আহমদ: ৬/২৪৯)

রিজিক বৃদ্ধি শুধু অর্থের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং এতে বরকত থাকা আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী তাকওয়া, সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, ইস্তেগফার এবং দোয়ার মাধ্যমে রিজিকে বরকত আসে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য এসব আমল নিয়মিত করার বিকল্প নেই।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!