1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

শাহবাগ থানার সামনে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

রাজধানীর শাহবাগ থানা সামনে ডাকসুর দুই নেতা—যুবাইর বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ—হামলা ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেখা দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর আহত দুই নেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে নেওয়া হয়। এ সময় থানার সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা যায়।

আহতদের মধ্যে এ বি জুবায়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সমাজসেবা সম্পাদক এবং মুসাদ্দিক আলী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তারা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন।

ঘটনার পর ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, পরিকল্পিতভাবে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য হুমকি।

এ বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, “ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে আমাদের দুই নেতার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই পোস্টের জেরে এ বি জুবায়েরসহ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতাকর্মীরা থানায় আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে।

মেহেদী হাসান দাবি করেন, “ঘটনার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বরং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছে। আমাদের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের রক্ষা করেন।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতিতে সহিংসতা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সহিংসতা কোনো সমাধান হতে পারে না।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সার্বিকভাবে, শাহবাগ থানার সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয়, বরং বর্তমান ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনাপূর্ণ চিত্রকেই তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!