1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন

তাপপ্রবাহে সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা, সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের

হেলথ ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা। অতিরিক্ত গরমে তাদের শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা দেখা দেয় এবং তাপের প্রভাবও তুলনামূলক বেশি পড়ে। এ কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই সময় তাদের বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

চিকিৎসকদের মতে, গরমের সময় শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত পানি ও তরল খাবার না পেলে তাদের শরীর দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা ঘরে তৈরি ফলের রস খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময়টিতে শিশু ও বয়স্কদের বাইরে না নেওয়াই উত্তম। প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরানো এবং ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করা উচিত।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমে শিশুদের মধ্যে হিটস্ট্রোক, জ্বর, ডায়রিয়া, বমি ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু শিশুরা অনেক সময় তাদের অসুস্থতার লক্ষণ স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, তাই অভিভাবকদের আরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকরা ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। প্রয়োজনে ফ্যান বা এয়ার কুলার ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সরাসরি ঠান্ডা বাতাসে দীর্ঘ সময় রাখা উচিত নয়। যদি অতিরিক্ত গরম অনুভব, মাথা ঘোরা, বমি বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

খাবারের ক্ষেত্রে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাত, ডাল, শাকসবজি ও মাছের মতো পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তরমুজ, বাঙ্গি, পেঁপে, শসা ও কলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক। এছাড়া টক দই হজমে সহায়তা করে এবং শরীর সতেজ রাখে।

গরমের সময় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকরা। এ সময় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বাড়ায় ডায়রিয়া ও জন্ডিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই বাইরে তৈরি খাবার—যেমন ফুচকা, চটপটি বা খোলা শরবত—এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ঘরে তৈরি খাবার খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও ভারী খাবার পরিহার করে তরল ও পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়া উচিত। গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়, তাই সবসময় তাজা খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সবাইকে বেশি করে বিশুদ্ধ পানি পান করা, চা-কফি কম খাওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা এবং নিয়মিত পানি পান করানো জরুরি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সবারই প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!