দেশজুড়ে বর্তমানে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিনে বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে, এমনকি রাতেও ঘরে স্বস্তি মিলছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ আড্ডা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসজুড়ে একাধিক দফায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে, যার মধ্যে কিছু দফা অত্যন্ত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণভাবে ৩৬–৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু, ৩৮–৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি এবং ৪০ ডিগ্রির বেশি হলে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। এর আগেও ২০২৪ সালে দেশের তাপমাত্রা প্রায় ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল, যা ছিল ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র গরমের অন্যতম প্রধান কারণ হলো উচ্চচাপ বলয়। এটি এমন একটি আবহাওয়াগত অবস্থা, যেখানে গরম বাতাস উপরে উঠতে পারে না এবং নিচের স্তরেই আটকে থেকে তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি আকাশে মেঘ না থাকায় সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পৌঁছে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্দ্রতা। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে ঘাম সহজে শুকায় না, ফলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়। এতে বাস্তব তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হয় এবং অস্বস্তি বাড়ে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশের গড় তাপমাত্রা সাধারণত ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও এ বছর রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর মতো অঞ্চলগুলোকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছর ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘস্থায়ী তীব্র তাপপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকায় মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু মৌসুমি পরিবর্তনের ফল নয়, বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও এর পেছনে রয়েছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তাপপ্রবাহ এখন বেশি ঘন ঘন ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে জনজীবন, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়