1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষঃ

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত ৮

লিমন, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুনতে পান তারা। পরে কারখানায় গিয়ে অসুস্থ কয়েকজনকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে দেখতে পান। এরপর স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, গ্যাসের তীব্র গন্ধের কারণে সাগর থেকে উপকূলে ফেরার সময় জেলেদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে জেলেরা কারখানার পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তারা প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়ান।

কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, কারখানা থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে তিনি তখন কারখানার বাইরে থাকায় বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। মরদেহগুলো মর্গে রাখা হয়েছে। অপর একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ রয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিস। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি এলএনজি বহন করত।

তিনি বলেন, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন। কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো গ্যাস থাকতে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও খুবই দুর্বল ছিল বলে তিনি জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page