
ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প বলেছেন, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য ইরানের সামনে এটি ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় দেশটিকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছেন।
তবে একই দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না। এর পরও ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, “আমরা এখন আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাত পাঁচ মাসের বেশি সময় পেরিয়েও পুরোপুরি থামেনি। মাঝেমধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।
ট্রাম্প বলেন, “এটি তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তি করার শেষ সুযোগ। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে আমি তাদের শেষবারের মতো সুযোগ দিতে চাই।”
তিনি জানান, আলোচনায় দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা। ট্রাম্পের ভাষায়, হরমুজ প্রণালি “হয়তো আগামীকালই” খুলে যেতে পারে, তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎস থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে জাহাজটির পরিচয় বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে ইরান আবারও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং কয়েকটি জাহাজে হামলার অভিযোগও উঠেছে। বর্তমানে অনেক জাহাজকে ইরানের উপকূলঘেঁষা নির্ধারিত পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তিনি জানান, একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছানো গেলেও প্রণালি এখনই পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অন্যদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, “ইরান স্বীকার করুক বা না করুক, বহু বছর ধরে চলা সংকটের সমাধান নিয়ে আমরা বাস্তবেই আলোচনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল রয়েছে এবং কোনো চুক্তি বা পূর্ণ সমঝোতা না হলে সেই চাপ অব্যাহত থাকবে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।