
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের সব শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করারও সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সংসদ ভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবার সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
বৈঠকে দেশের সব শিশুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে খাবারের মান ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাবারের মান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্য অর্থবছরের খাতভিত্তিক বাজেট ও ব্যয় পরিকল্পনা বৈঠকে তুলে ধরা হয়। বরাদ্দ করা বাজেটের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিটির সদস্যদের বিদ্যালয় চালু থাকা অবস্থায় সরেজমিনে কার্যক্রম পরিদর্শনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
এদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
বুধবার সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবছর নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণকাজে ঠিকাদাররা যাতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ (সিজন-২)’-এর প্রচার বাড়াতে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘদিনের পাঁচ হাজারের বেশি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি ও সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার চলমান কার্যক্রম, বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়।
নদীভাঙন মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও বারবার ব্যয়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর তাগিদও দেওয়া হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে সংকটপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন কমানোর পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পানির পুনর্ব্যবহারের নীতি অনুসরণের কথাও বলা হয়েছে।
নদী, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখননের কাজ বিভিন্ন সংস্থার আলাদাভাবে করার পরিবর্তে একটি সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা সমাধানে কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরের শুরুতেই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।