
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর জন্য চীনের শীর্ষ ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে চীনা ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে বিনিয়োগকারীদের অর্থায়ন পাওয়া সহজ হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নার (চায়না এক্সিম ব্যাংক) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না এক্সিম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইনভেস্ট বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার—বাংলাদেশ–চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেয়।
উপস্থাপনায় জানানো হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলার। তবে এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনীয় বা কম বাণিজ্যের দেশ কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত, চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) এবং মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরা হয়। এসব খাতে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ–চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ প্রতিষ্ঠা। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনা, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণই এ ধরনের অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোরও প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন সম্প্রসারণে সহায়ক অংশীদারত্ব প্রয়োজন। বাংলাদেশে চীনা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উপকৃত হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। উপস্থাপনায় জানানো হয়, সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চার ব্যাংকের মধ্যে এই তিনটি ব্যাংক রয়েছে।
এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি চীনা কোম্পানি অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তা দিতে ব্যাংকটি বিশেষায়িত সক্ষমতা কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাংকটির প্রায় ৪০টি প্রকল্প রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে অর্থায়ন ধারাবাহিক ভূমিকা রাখতে পারবে।
অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।