
শীতের সবজি বাজারে আসার আগেই রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রায় সব ধরনের সবজি। পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া ছাড়া অধিকাংশ সবজির কেজি ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। আগাম শিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে।
তবে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ব্রয়লার মুরগির দামে। গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে দাম। অন্যদিকে, ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও চালের বাজারে গত সপ্তাহের তুলনায় তেমন পরিবর্তন নেই।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে ফুলকপি, ঝিঙা, লাউ, কচুমুখি ও পটোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ১০০ টাকা। আগাম মুলা ও ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। শীতের আগাম শিমের কেজি ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে ৩০ টাকা ও মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মানিক জানান, শীতের সবজি বাজারে আসার আগে দাম সাধারণত বেশি থাকে। এর সঙ্গে ট্রাকভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজির দামেও প্রভাব পড়েছে। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
এদিকে, পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। দেশি রসুন ১৪০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আগের সপ্তাহের মতোই ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি।
ব্রয়লার মুরগির কেজি বর্তমানে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজিতে। বিক্রেতাদের মতে, গরমের তীব্রতা কমায় মুরগির উৎপাদন বেড়েছে এবং বাজারে সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কিছুটা কমেছে।
অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে ফার্মের ডিমের ডজন ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
চালের বাজারে গত এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে বাড়া দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে মোটা চালের কেজি ৫৫ টাকা, মাঝারি মানের আটাশ ও পাইজাম চাল ৫৫ থেকে ৬৫ টাকা এবং সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে নাজিরশাইল চালের কেজি ৮০ থেকে ৮৬ টাকা।
বিক্রেতারা জানান, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চালের দামে প্রভাব পড়েছে। এদিকে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি লিটার ২১০ টাকা এবং দুই লিটারের বোতল ৪১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।