
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামে দেখা মিলেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। একটি বসতঘরের বারান্দার মাঝখান দিয়ে উঠে গেছে একটি কাঁঠাল গাছ, আর সেই গাছেই ধরেছে একাধিক কাঁঠাল।
প্রকৃতির এই অনন্য দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় কৌতূহলী মানুষ। বাড়ির বারান্দার ভেতর দিয়েই গাছের কাণ্ড উঠে যাওয়ায় বিষয়টি এলাকাবাসীর কাছে বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘরের ভেতর থেকেই ফল ধরার এমন দৃশ্য এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গাছটির ডালে ঝুলছে একাধিক কাঁঠাল, যা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক জনতা।
বাড়ির মালিক সেলিম চাপরাসি জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি গাছপালা ভালোবাসেন। একসময় তার স্ত্রী কাঁঠাল খাওয়ার পর বিচি বারান্দার পাশে ফেলে দেন, সেখান থেকেই একটি চারা গজিয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, ধীরে ধীরে গাছটি বড় হয়ে ফল দিতে শুরু করে। পরে বাড়ির বারান্দা নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলার সুযোগ থাকলেও মায়ার টানে তিনি সেটি সংরক্ষণ করেন।
সেলিম চাপরাসি বলেন, “গাছ ও ফলের প্রতি ভালোবাসার কারণেই এটি কেটে ফেলিনি। বরং গাছের কোনো ক্ষতি না করে বারান্দার গ্রিলসহ অন্যান্য নির্মাণকাজ করেছি। এখন ঘরে বসেই গাছে ফল ধরার দৃশ্য দেখতে পারি।”
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত বসতঘরের এত কাছাকাছি এমন বড় ফলজ গাছ খুব কমই দেখা যায়। গাছটির প্রতি পরিবারের যত্ন ও ভালোবাসার কারণেই এটি আজও টিকে আছে। এটি এখন শুধু ফলই দিচ্ছে না, বাড়ির সৌন্দর্যও বাড়িয়ে তুলেছে।
এলাকাবাসীর মতে, আধুনিক নির্মাণের যুগে যেখানে গাছ কেটে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে, সেখানে সেলিম চাপরাসির পরিবার প্রকৃতি সংরক্ষণের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাদের এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষায় অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন তারা।