হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক নিয়ে মাসুমা হাদির ব্যাখ্যা
রাসেদুল, বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান বিতর্ক ও ‘নোংরামি’ এবং ‘মিথ্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তার বোন মাসুমা হাদি।
শুক্রবার (৫ মে) সকালে দেওয়া এক দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, পরিবারের বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চললেও ভাইয়ের কথা বিবেচনায় এতদিন তিনি নীরব ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করতে বাধ্য হয়েছেন।
মাসুমা হাদি অভিযোগ করেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ভাইয়ের চিকিৎসার সময় হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই মামলার কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়, যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের না জানিয়ে কীভাবে মামলার বাদী নির্ধারণ করা হলো, তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্য ওমর ফারুক নিজেও আহত ছিলেন এবং একই পরিস্থিতিতে থাকায় তার মানসিক অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওমর ফারুককে নিয়ে আর্থিক অবস্থা সম্পর্কিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
চিকিৎসা প্রসঙ্গে মাসুমা হাদি বলেন, প্রথমে পরিবার নিজ উদ্যোগে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হয়। এর আগে সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়, যেখানে প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, “সম্মান করতে না পারলেও কিছু না জেনে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরবর্তীতে তাকে দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। চলতি বছরের ৮ মার্চ মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স।