
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক বহিরাগত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে গত ছয় মাসে ধারণ করা শতাধিক স্পর্শকাতর ভিডিও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম রিয়াজ আহমেদ। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর এলাকার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় ব্রাজিল-জাপান বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার পর কয়েকজন ছাত্রী টিএসসির ওয়াশরুমে যান। এ সময় একজন ছাত্রী সন্দেহ করেন, একজন পুরুষ ওয়াশরুমে ঢুকে দ্রুত বেরিয়ে গেছেন। পরে কয়েকজন ছাত্রী ওই যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে দেখা যায়, ওয়াশরুমের দরজার ছোট ছিদ্র দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ফোনের গ্যালারিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের ছাত্রীদের এমন প্রায় ১৪০টি ভিডিও পাওয়া গেছে।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রান্তিক ফটকে নিয়ে যান। সেখানে আশুলিয়া থানা পুলিশ পৌঁছে অভিযুক্তকে নিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাস ত্যাগ করায় পরে প্রক্টরের অনুরোধে তাকে আবার ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভোর ৫টার দিকে অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা লিখিত অভিযোগ দেন এবং মামলা দায়েরের জন্য আশুলিয়া থানায় যান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সীমান্ত বলেন, অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে প্রায় ১৪০টি ভিডিও পাওয়া গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রিয়াজ আহমেদ দাবি করেন, বড় পর্দায় খেলা দেখতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তার ভাষ্য, এক বন্ধু তার ফোন নিয়ে ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে পালিয়ে যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, এর আগেও ক্যাম্পাসে এসে কিছু ভিডিও ধারণ করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে বহিরাগত ওই যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলা রুজু করে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।