
বরগুনার তালতলী উপজেলার নদ-নদীতে চলতি ইলিশ মৌসুমেও আশানুরূপ মাছের দেখা মিলছে না। অতিবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। এতে জীবিকা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উপকূলের হাজারো মৎস্যজীবী।
উপজেলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জানা গেছে, অধিকাংশ জেলেই ধারদেনা করে নদীতে মাছ ধরতে গেলেও পর্যাপ্ত ইলিশ না পাওয়ায় খরচই তুলতে পারছেন না। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেকেই ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় জেলে রাসেল খান বলেন, “ঋণ করে নদীতে যাই। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় বাজারের টাকাও ওঠে না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে জীবন পার করছি। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে গেছে।”
ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর দাবি, সংকট মোকাবিলায় জরুরি সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। নদীর পানির প্রবাহ, লবণাক্ততার পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলে পরিবর্তন আসে। ফলে ভরা মৌসুমেও তালতলীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে না।
তবে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে মৌসুমের পরবর্তী সময়ে ইলিশের সরবরাহ বাড়তে পারে এবং জেলেদের জালেও কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।