
চারদিকে সবুজ গাছপালা, পাখির কোলাহল আর নিরিবিলি বনভূমির মাঝে হঠাৎ গাছের মগডাল থেকে নেমে আসে একদল বিরল উল্টোলেজি বানর। এই বিপন্ন প্রজাতির স্বাভাবিক বিচরণে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। একই সঙ্গে পর্যটকদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এই বিরল বানরের একটি দলের দেখা মেলে।
উল্টোলেজি বানরের ইংরেজি নাম নর্দার্ন পিগ-টেইলড মাকাক (Northern Pig-tailed Macaque)। পিঠের দিকে শূকরের লেজের মতো বাঁকানো ছোট লেজ থাকায় বাংলায় এদের ‘উল্টোলেজি বানর’ বলা হয়। স্থানীয়ভাবে এরা কেশরওয়ালা সিংহ বানর, কুলু বানর, উলু বানর কিংবা ছোট লেজি বানর নামেও পরিচিত।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এরা সাধারণত ২০ থেকে ২৫ সদস্যের দলে গভীর বনে বসবাস করে। বনের বিভিন্ন ফল, বীজ ও কচি পাতাই তাদের প্রধান খাদ্য। লাউয়াছড়া ছাড়াও শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এদের বিচরণ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় উল্টোলেজি বানর ‘সংকটাপন্ন’ (Endangered) প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রাণীটি সংরক্ষিত।
তবে এই বিরল প্রজাতির জন্য অন্যতম বড় হুমকি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া আখাউড়া-সিলেট রেলপথ। খাদ্যের সন্ধানে রেললাইনের আশপাশে আসায় দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় মাঝেমধ্যেই বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘটে, যা উল্টোলেজি বানরের অস্তিত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, বর্তমানে লাউয়াছড়ায় উল্টোলেজি বানরের একটি ছোট-বড় দল নিরাপদে বসবাস করছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের চলাচল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর খাদ্য উপযোগী বিভিন্ন গাছের চারাও রোপণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রেলপথে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিরল প্রজাতির আবাস আরও নিরাপদ হবে।