
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পরিষদ সিনেটের ৩৬তম বার্ষিক সভা আজ শনিবার (৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. এ.আর. মল্লিক ভবনের (প্রশাসনিক ভবন) সিনেট কক্ষে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে একই সময়ে সিনেট নির্বাচন না হওয়া এবং আওয়ামীপন্থী ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে অধিবেশন আয়োজনের অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
অধিবেশন শুরুর আগে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করে চাকসু। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, গবেষণা, নিরাপত্তা ও শিক্ষার মানোন্নয়নসহ ১৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ শিক্ষক, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর ‘গণহত্যার পক্ষে মৌন মিছিল করা’ শিক্ষক এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত সিনেট অধিবেশন চাকসু প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
চাকসুর ১৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ডাকসু, হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচন এবং বার্ষিক পরিচালন বাজেট নিশ্চিত করা।
২. আবাসিক হল সংস্কার, মেরামত ও আধুনিকায়ন করা।
৩. আলাওল ও এ. এফ. রহমান হলের এক্সটেনশন ভবন নির্মাণ।
৪. আবাসন সক্ষমতা ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।
৫. বহুতল আবাসিক হল নির্মাণে পৃথক উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ।
৬. আবাসন সুবিধাবঞ্চিত ৩ হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা দেওয়া।
৭. নতুন শাটল ট্রেন চালু এবং বাস-অবকাঠামোর উন্নয়ন।
৮. চট্টগ্রাম শহরগামী ন্যূনতম ১০টি বাস চালু করা।
৯. টিএসসি, মুক্তমঞ্চ, অডিটোরিয়াম, স্টেডিয়াম ও কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ।
১০. আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করা।
১১. লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুম আধুনিকায়ন এবং এসি সুবিধা চালু করা।
১২. ৩০ শয্যার মেডিকেল সেন্টার ও ন্যূনতম পাঁচটি আইসিইউ বেড স্থাপন।
১৩. আধুনিক জিমনেশিয়াম, টার্ফ নির্মাণ ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন।
১৪. গবেষণা অনুদান ও গবেষণা অবকাঠামোয় বরাদ্দ বৃদ্ধি।
১৫. প্রশাসনিক অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়ন।
১৬. ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা।
১৭. স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত এবং খাদ্য ভর্তুকি চালু করা।
১৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া।
১৯. মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।