
জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ভারতের কাছ থেকে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেনের ভিত্তিতে নয়, এই জ্বালানি সহায়তার সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে থমকে থাকা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির শর্ত যুক্ত করতে পারে নয়াদিল্লি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের দেওয়া ঋণ বা লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)-এর আওতায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প শুরু হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের বিষয়টিকে থমকে থাকা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কাজ ফের গতি দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে ভারত।
সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের একজন দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি এখন শুধু অর্থনৈতিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি ভারতীয় অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে পারে।
ভারতের প্রায় ৭৩০ কোটি (৭.৩ বিলিয়ন) ডলার মূল্যের এলওসির আওতায় বাংলাদেশে সড়ক, রেল, বন্দর ও সেচসহ বিভিন্ন খাতে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ১৫টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৮টি প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং অন্তত ১১টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঢাকায় ক্ষমতার পরিবর্তন এবং ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশে চীনের সম্ভাব্য প্রভাব বিস্তার নিয়েও উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি।
বিশেষ করে বাংলাদেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত অবস্থানের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ভারত।
ভারতের আরেকটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসন দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারবে। তবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘একতরফা কোনো সুবিধা’ দেওয়া হবে না—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।