1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

যেভাবে কাজ করে ‘ঘুষ.সাইট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে—সেই অভিজ্ঞতা জানাতে চালু হয়েছে ‘ঘুষ.সাইট’। গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে নাম-পরিচয় গোপন রেখে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারছেন ভুক্তভোগীরা। উদ্যোক্তাদের দাবি, চালুর প্রথম দুই দিনেই সাইটটিতে ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তা দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ। বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশের জন্য তারা এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় এনে কোন সরকারি দপ্তর বা সেবা ঘিরে কত অভিযোগ রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যকে যাচাই করা অভিযোগ বা আইনি প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

ওয়েবসাইটে অভিযোগ জানাতে ব্যবহারকারীকে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল—এই পাঁচ ধরনের তথ্য দিতে হয়। পাশাপাশি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণও যুক্ত করা যায়।

অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দুই মিনিটেরও কম সময়ে শেষ করা যায়। তবে সাইটে কোনো ব্যক্তি, পদবি বা ফোন নম্বর উল্লেখ করার সুযোগ রাখা হয়নি।

উদ্যোক্তারা জানান, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার পরিবর্তে কোন দপ্তর বা সরকারি সেবা ঘিরে বেশি অভিযোগ আসছে, সেটিই তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।

অভিযোগ জমা দেওয়ার পর তা সরাসরি প্রকাশ করা হয় না। প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলা হয়। আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা নীতিমালা ভঙ্গকারী অভিযোগও বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিভাগ, দপ্তর, সেবার ধরন, দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং ঘটনার ফলাফলের ভিত্তিতে তথ্য প্রকাশ করা হয়।

উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দুই দিনে মোট ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি অভিযোগ এসেছে ঢাকা বিভাগ থেকে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৬৭টি, রাজশাহী থেকে ৪৪টি, খুলনা থেকে ৪৩টি, সিলেট থেকে ৩৮টি, রংপুর থেকে ৩৭টি, ময়মনসিংহ থেকে ৩০টি এবং বরিশাল থেকে ১৫টি অভিযোগ এসেছে।

অভিযোগকারীদের ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন।

ওয়েবসাইটটির উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে যাচাই করা হয় না। তাই প্রকাশিত প্রতিটি প্রতিবেদনের সঙ্গে ‘যাচাই করা হয়নি’ উল্লেখ থাকে।

তাদের দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম কোনো অভিযোগকে সত্য ঘটনা বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছে না। এটি কোনো তদন্ত সংস্থা নয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প হওয়ার দাবিও করছে না। বরং মানুষের অভিজ্ঞতাগুলো এক জায়গায় সংরক্ষণ করে একটি উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সাইটটি এখন পর্যন্ত তাদের নিজস্ব অর্থে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই এবং বাইরের কোনো অর্থায়নও নেওয়া হয়নি। তবে স্বেচ্ছা অনুদান গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা সাইফ কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়েবসাইটটির সাফল্য শুধু কত মানুষ এতে প্রবেশ করল, তার ওপর নির্ভর করে না। বরং কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নিতে যাওয়ার আগে অন্যদের অভিজ্ঞতা দেখে কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তা বুঝতে পারেন এবং অন্যায্য দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন—এটিকেই তারা উদ্যোগটির সাফল্য হিসেবে দেখছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page