
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তবর্তী এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে মো. হানিফ আলী (২২) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আহত হানিফ বর্তমানে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সন্ধ্যাকুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
হানিফের পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালে মাদক কারবারিদের মাদক পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে হানিফকে মারধর করে তার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে হানিফের বাবা সাদেক আলী ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ তাদের।
পরিবারের অভিযোগ, এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে সন্ধ্যাকুড়া বাজারে হানিফকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পরে তাকে একটি ঘরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
একপর্যায়ে হানিফের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে স্থানীয়রা হানিফকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় হানিফের বাবা সাদেক আলী বাদী হয়ে ১০ জনকে অভিযুক্ত করে ঝিনাইগাতী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
হানিফের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের হুমকির কারণে সাদেক আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’