
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে কালীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর ৮।
কালীগঞ্জ উপজেলার সাদপুর গ্রামের মৃত আদম আলী গাজীর ছেলে আফসার আলী গাজী বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫(৩)/২৫ডি এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল আহাসান এবং সদস্য ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ইকবাল আলম বাবলুসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোবিন্দ মন্ডল, মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম ও সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল-রাজি টোকন, তারালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হোসেন ছোট, চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন এবং ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসানকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মোজাহার হোসেন কান্টু, ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী এবং যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে ভাড়াশিমলা গ্রামের আবু বক্কর ও জাহাঙ্গীর আলম, দাঁদপুর গ্রামের রেজাউল করিম, বাগবাটি গ্রামের হাফিজুর রহমান ডোডো, শীতলপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ও নীলকন্ঠপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং তারা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা, সরকার উৎখাত ও জনসাধারণের শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি, হকিস্টিক, রামদা, ককটেল ও লোহার রড নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।
এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিটে কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীতে অবস্থিত ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেলসদৃশ একটি বস্তু বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি ককটেলসদৃশ বস্তু, একটি সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বোতল ও ১১টি লাঠি উদ্ধার করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।