
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে অল্পের জন্য রুশ ড্রোন হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জনসনকে বহনকারী ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই ইয়াহোদিন স্টেশন ছাড়ার পর একই পথে চলা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে ড্রোন হামলা হয়।
রোববার রাতে পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে ইয়াহোদিন স্টেশনের এলাকায় এ হামলা হয়। ইউক্রেনের রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় কেউ হতাহত হননি। রুশ হামলার আশঙ্কায় ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর ফলে জনসনের ট্রেনটি আগেই স্টেশন ছেড়ে যায়।
ইউক্রেনের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনটি জনসনের ট্রেনকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জনসনের সঙ্গে ওই ট্রেনে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল, সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা গুন্টার সাউটারসহ কয়েকজন ইউরোপীয় কূটনীতিক। সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে বৈঠক করতে তারা কিয়েভে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডের স্পিগেল।
হামলার পর বরিস জনসন এটিকে ‘এলোমেলো ও অর্থহীন’ আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইউক্রেনের বেসামরিক রেলপথেও প্রতিদিন এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডট হামলার পর ট্রেন থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আক্রান্ত ট্রেনটি তাদের ট্রেনের কয়েক মিনিট পর সীমান্তের দিকে যাচ্ছিল। রুশ ড্রোন এগিয়ে আসার পর ট্রেনটি খালি করে দেওয়া হয়। এতে কেউ আহত হননি।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, রুশ হামলা এখন ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য পোল্যান্ডের আরও কাছে চলে এসেছে। তার অভিযোগ, রাশিয়ার হামলা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাও সিকোরস্কিও রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাইবার হামলা, অপতথ্য, গুপ্তচরবৃত্তি, অগ্নিসংযোগ এবং রেল অবকাঠামোতে নাশকতার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি ইউরোপে রাশিয়ার ‘উসকানিমূলক বিস্তার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে রোববার ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি একটি ট্রাকেও হামলা হয়। এতে দোরোহুস্ক-ইয়াহোদিন সীমান্তপথের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম ইউক্রেনে ইউরোপ থেকে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যুদ্ধের সম্মুখসারিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না এলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়েই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মাধ্যমে উভয় পক্ষই যুদ্ধের গতিপথ নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।